মানুষের সাথে যোগাযোগ ঘটবে অ্যালিয়েনদের !

99

মহাবিশ্বে আমরা কি একা? বর্তমান সময়ে এটি একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত ২০ বছর ধরে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ২,০০০ অ্যালিয়েন গ্রহ শনাক্ত করেছেন এবং এই আবিষ্কারের সম্ভাব্য ফলাফল হিসেবে অদূর ভবিষ্যতে মিল্কিওয়ে ছায়াপথের জুড়ে (সম্ভবত সম্পূর্ণ মহাবিশ্ব জুড়ে) মানব বসতি স্থাপিত হবে বলে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন।

অনেক বিশেষজ্ঞের মতে এইভাবে সম্পূর্ণ মহাবিশ্ব জুড়ে প্রাণের বিস্তার ঘটার অনেক সম্ভাবনা রয়েছে এবং এতে করে মহাবিশ্ব আরো প্রায় ১৩.৮ বিলিয়ন বছর টিকে থাকবে এবং প্রাণের জটিলতাকে ভেদ করে মহাবিশ্বে মানব সভ্যতার বুদ্ধিমত্তা বিকশিত করার জন্য প্রচুর সময় আছে।

এই পৃথিবীর বাহিরেও কী বুদ্ধিমান অ্যালিয়েন বা ভীনগ্রহবাসীর অস্তিত্ব আছে? যদি তাই হয়, মানব সভ্যতার সঙ্গে তাদের কখনো কী যোগাযোগ স্থাপিত হবে? স্পেস ডটকম বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের কাছে এমনই একটি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন যে ২০১৬ সালের মধ্যে বুদ্ধিমান অ্যালিয়েনদের সঙ্গে মানুষর যোগাযোগ ঘটবে কিনা আর তা না হলে কবে ঘটবে?

মাউন্টেন ভিউ, ক্যালিফোর্নিয়ার এসইটিআই ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডগলাস ভাকছ বলেন, ‘আমি এটা বলে দিতে পারছি না যে আমরা ২০১৬ সাল শেষ হবার আগেই মানবতার সঙ্গে বুদ্ধিমান অ্যালিয়েনদের যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এরকম কোনো অকাট্য প্রমাণও আমাদের হাতে নেই। কিন্তু এটা বলতে পারি যে প্রতিটি বছরই এর সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

তিনি স্পেস ডটকমকে আরো বলেন, ‘পরবর্তী দশকে আমাদের মিলিয়ন মিলিয়ন নক্ষত্র থেকে রেডিও সংকেত পাঠিয়ে অনুসন্ধান করতে সক্ষম হবো। তবে ২০১৬ সালের মধ্যেই আমাদের এটা নিয়ে বাজি ধরা ঠিক হবে না।’

‘কিন্তু পরবর্তী দশকের মধ্যে আমরা হয়ত আবিষ্কার করতে পারব যে এই মহাবিশ্বে আমরা একা নই। আবিষ্কারটি হতে পারে পৃথিবী থেকে দূরের কোনো গ্রহে একটি রেডিও সংকেত পাঠানোর মাধ্যমে।’

কিন্তু এক্ষেত্রে আর্থ ইন হিউম্যান হ্যান্ডস (গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল পাবলিশিং থেকে ২০১৬ এর অক্টোবরে এটি বাজারে আসবে) বইয়ের লেখক জ্যোতির্বিজ্ঞানী ডেভিড গ্রিনসপোন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন।

তিনি স্পেস ডটকমকে বলেন, ‘আমার কাছে প্রাথমিকভাবে ২০১৫, ২০১৪ বা ২০১৭ থেকে ২০১৬ এর কোনো পার্থক্য নেই।’

গ্রিনসপোন এর মতে ‘গ্রহগুলো সম্পর্কে অনুসন্ধান উত্সাহিত করা হচ্ছে। কিন্তু ১৯৬০ সালে প্রথম দিকে এসইটিআই এর কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত সত্যিই কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন আমার চোখে পড়েনি। কারণ তাহলে এখনো পর্যন্ত কোনো যোগাযোগ কেন তৈরি করা গেল না?’

গ্রিনসপোন নিজেই এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে প্রস্তাব করেন যে, ‘যে সময়ে আমরা এই বিষয়টিকে নিয়ে অনুসন্ধান করছি সে সময়ে যে যে মনোযোগ ও ধৈর্য্য দরকার তা আগে নিশ্চিত করতে হবে।’

গ্রিনসপোন বলেন, ‘তবে এটা নিশ্চিত যে গত কয়েক বছরে মানব সম্প্রদায় এই বিষয়টিকে নিয়ে অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে নতুন কিছু জায়গা তৈরি করেছে। এবং এর মাধ্যমে এটিও নিশ্চিতভাবে প্রমানিত হয় যে সত্যি সত্যি অ্যালিয়েন সভ্যতার অস্তিত্ব রয়েছে।’

 

 

কোনো মন্তব্য নেই

ভাল লাগলে মন্তব্য লিখুন